ফাউন্ড্রী এবং প্যাটার্ন মেকিং-৪


 #পারমিয়াবিলিটি কী?এটি কিভাবে নির্ণয় করা যায়?

পারমিয়াবিলিটি:গলিত ধাতু বা মোল্ডে ঢালাই করলে মোল্ডে এর বালিতে ৰাষ্পের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও গলিত ধাতুর মধ্যে কিছু গ্যাস দ্রবীভূত থাকে। এই গ্যাস এবং বাষ্প ঢালাই কৃত বস্তুর মধ্যে গ্যাস হােলের সৃষ্টি করে।তাই বালির দানার গুনাবলী এমন হৰে যাতে এই গ্যাস এবং বাষ্প বালির ভিতর দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে। বালির এই গুনকে পারমিয়াবিলিটি বলে।পারমিয়াবিলিটি মোল্ডিং বালির অতি প্রয়ােজনীয় গুণ এবংএটির মান যথাসম্ভব বেশী হওয়া উচিৎ।


পারমিয়াবিলিটি নির্ণয়ের পদ্ধতি:

(A.F.A কতৃক দেয়া পদ্ধতি):

এক সেন্টিমিটার উচ্চতা এবং এক বর্গসেন্টিমিটার ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট একটি বালির নমুনার ভিতর দিয়ে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে এক গ্রাম চাপে প্রতি মিনিটে যত ঘনসেন্টিমিটার আয়তনের বাতাস বের হয়ে যেতে পারে তা দ্বারাই বালির পারমিয়াবিলিটি (বা পারমিয়াবিলিটি নাম্বার) নির্দেশিত হয়|


পারমিয়াবিলিটি নাম্বার, P=Vh/Pat

এখানে,

 P = পারমিয়াবিলিটি নাম্বার

V = বাতাসের আয়তন (cm3)

H= বালির নমুনার উচ্চতা (cm) 

P= বাতাসের চাপ (gm/cm2)

A = বালির নমুনার ক্ষেত্রফল (cm2)

T = সময় (min)



#স্যান্ড বাইন্ডার কত প্রকার ও কি কি?

স্যান্ড বাইন্ডার: স্যান্ড বাইন্ডার  এমন কিছু পদার্থ যা মােল্ডিং ৰালিকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।এটি মোল্ডিং বালিকে প্রয়োজনীয় bonding strength দান করে।

 স্যান্ড বাইন্ডারকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়:

ক) মাটি জাতীয় বাইন্ডার(clay type binder) 

খ) জৈৰ জাতীয় বাইন্ডার(organic type binder) 

গ) অজৈব জাতীয় বাইন্ডার (Inorganic type binder)


মাটি জাতীয় বাইন্ডার কে আবার পাঁচটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়:

১) ফায়ার ক্লে (Fire clay)

২) বেনটোনাইট (Bentonite) 

৩) ইললিট(lillite

৪) লিমােনাইট(Limonite)

৫) কাওলিনাইট(Kaolinite)

 

#পাঁচটি জৈব এবংপাঁচটি অজৈব বাইন্ডার এর নাম লিখ ।

উত্তর :

 ৫টি জৈব  বাইন্ডার এর নাম:

১) চিটাগুড় (Molasses)

২) রেজিন (Resin)

৩) পিচ

৪) কয়লার গুড়া

৫) সালফাইট লাই (sulphite lye)


৫টি অজৈব বাইন্ডারের নাম:

১) পাের্টল্যান্ড সিমেন্ট

 ২) সিলিকেট

৩) বেন্টোনাইট

৪) ফায়ার ক্লে

৫) জিপসাম


#অ্যাডিটিভস কি?কত প্রকার ও কি কি? কয়েকটি অ্যাডিটিভস  এর নাম লিখ।

অ্যাডিটিভস:

 স্যান্ড বাইন্ডার ব্যাতিত মোল্ডিং বালির সাথে অল্প পরিমানে অন্যান্য মেটেরিয়াল মিশ্রিত করা হয় যা বন্ধন ক্রিয়ায় কোন প্রভাব ফেলেনা। এই সমস্ত মেটেরিয়াল কে অ্যাডিটিভস বলে।এটি মােল্ডের কতিপয় বিশেষ গুণাগুন বৃদ্ধি পায়।

অ্যাডিটিভস কে দুই ভাবে ভাগ করা যায়:

ক) ফেসিং অ্যাডিটিভস ও

খ) কুশন অ্যাডিটিভস।


কয়েকটি ফেসিং অ্যাডিটিভস এর নাম:

১) কয়লার গুড়া (Coal dust) 

২) আলকাতরা এবং অ্যাসফলট (Pitch and asphalt) 

৩) গ্রাফাইট (Graphit)

৪) কোক (Coke dust) 

৫)সিলিকা গুড়া (Sillica flour)


কয়েকটি কুশন অ্যাডিটিভস এর নাম:

১) কাঠের গুড়া, সিরিয়াল (Cereal)

২) পিয়ারলাইট (Pearlite)

 ৩) আয়রন অক্সাইড (Iron oxide)

 ৪) এমােনিয়াম বাই ফ্লোরাইড


#গ্রীন স্যান্ড এবং লোম স্যান্ডের মধ্যে পার্থক্য লিখ।(ভর্তি পরীক্ষা ১৭-১৮) 


গ্রীন স্যান্ড

লোম স্যান্ড

১. এই প্রকার বালি ভিজা এবং এতে ৬ থেকে ৮ ভাগ পানি  থাকে।

১. এই প্রকার বালিতে ১৮ থেকে ২০ ভাগ পানি থাকে।

২.কাদার পরিমান ১৮ থেকে ৩০ ভাগ।


২. এই প্রকার বালিতে শতকরা ৫০ ভাগ কাদা থাকে। 

৩.গ্রীন স্যান্ড নরম, হালকা এবং সচ্ছিদ্র।

৩. পানি ও কাদার পরিমান বেশী থাকায় এটি পেস্টের মত।

৪. গ্রীন স্যান্ড দ্বারা মোল্ড তৈরিতে প্যাটার্নের প্রয়ােজন পড়ে।

৪)মোল্ড তৈরিতে কোন প্যাটার্নের প্রয়ােজন পড়ে না।

৫.এটি সহজ, ছোট ও মিডিয়াম আকৃতির কাস্টিং ব্যবহার  এর জন্য করা হয় । 

৫.এটি সম আকৃতির বৃহৎ দ্রব্য যেমনঃ ড্রাম, রাসায়নিক কড়াই ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।



#মোল্ডিং মেটেরিয়ালস অনুসারে চারটি মোল্ড এর নাম লিখ। (ভর্তি পরীক্ষা ৮৯-৯০)

উত্তর: চারটি মোল্ডিং মেটেরিয়ালসের এর নাম: 

১) গ্রীন স্যান্ড মোল্ড

২) ডাই স্যান্ড মোল্ড

৩) প্লাস্টার মোল্ড

৪) মেটাল মোল্ড


#গ্রীন স্যান্ড এবং ড্রাই স্যান্ড এর মধ্যে পার্থক্য লিখ। 

উত্তর:গ্রীন স্যান্ড ও ড্রাই স্যান্ডের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে দেওয়া হলাে:


গ্রীন স্যান্ড 

ড্রাই স্যান্ড 

১.এই জাতীয় বালিতে কম বেশী আর্দ্রতা থাকে।

১. এই জাতীয় বালিতে আর্দ্রতা থাকেনা। 

২. গ্রীন স্যান্ড নরম, হালকা এবং সচ্ছিদ্র।

২. ড্রাই স্যান্ড সাধারনত  আকারে বড় এবং দানা মােটা। 

৩. গ্রীন স্যান্ড দ্বারা তৈরি মোল্ডের ক্ষমতা

 কম।

৩, ড্রাই স্যান্ড দ্বারা তৈরি মোল্ডের ক্ষমতা বেশি।

৪.আর্দ্রতা বেশী থাকায় এই জাতীয় বালি দ্বারা তৈরি মােল্ডের কাস্টিং এ পিন হােল, পরােসিটি ইত্যাদি ক্রটি দেখা যায়।

৪. ড্রাই স্যান্ড দ্বারা তৈরি মােল্ডের কাস্টিং এ কম ক্রটি দেখা যায়।

৫. ছােট, সহজ ও মধ্যম আকারের ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়।

৫. বড় এবং ভারী ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।



#মোল্ড কি?(ভর্তি পরীক্ষা ৮৮-৮১) কত প্রকার ও কি কি? প্রত্যেক প্রকারের ব্যবহার লিখ।

মােল্ড: ঢালাই পদ্ধতিতে কোন বস্তু তৈরি করতে হলে প্রথমে বস্তুর অনুরূপ আকৃতির প্যাটার্নের সাহায্যে ফাঁকা স্থান তৈরি করা হয়। এই ফাঁকা স্থানকে মােল্ড বা ছাঁচ বলে। বালি, মােম, লৌহজাত দ্রব্য ইত্যাদির সাহায্যে মােল্ড তৈরি করা হয়।

 মােল্ড প্রধানত দুই প্রকার:

১)স্থায়ী মােল্ড(Permanent mould)

২) অস্থায়ী মােল্ড (Temporary mould)


১)স্থায়ী মােল্ড:এটি লৌহজাত দ্রব্য যথা : গ্রে কাস্ট আয়রন ইস্পাত ইত্যাদি দ্বারা তৈরি করা হয়। ২)অস্থায়ী মােল্ড:এটি বালি, রজন, মােম,প্যারিস প্লাস্টার, সিরামিক ইত্যাদি দ্বারা তৈরি করা হয়।












0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post